agকুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এর অন্যতম গবেষণা সহযোগী ম্যাথিউ ডানবাবিনের উদ্ধৃতি দিয়ে ম্যাশএবল জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন নদী, সাগর কিংবা মহাসাগরের অজানা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যেই অনেকগুলো রোবট পাঠানো হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশত্রবল আরও জানিয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে রোবটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। সমুদ্র জলরাশির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং গতিবিধি পরিমাপের জন্য বর্তমানে আর্গো এনডায়রনসেন্টাল প্রকল্পের আওতায় সমুদ্রপথে অসংখ্য স্বয়ংক্রিয় জাহাজ রয়েছে। ম্যাশত্রবল জানিয়েছে, এ মুহূর্তে মহাসাগরে মোট ৩৮৮১টি আর্গোবট রয়েছে। আর্গোবটগুলো এক ধরনের ভাসমান রোবটিক বয়া। এই বয়াগুলো সমুদ্রে ভাসমান থাকে এবং পানির প্রায় ২ কিলোমিটার গভীর পর্যন্ত যেতে পারে। প্রতি দশদিনে এগুলো পানির ওপরে ভেসে ওঠে এবং সংগ্রহকৃত তথ্য প্রেরণ করে। বৈশ্বিক আবহাওয়া এবং সমুদ্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় এই রোবটিক বয়ার মাধ্যমে। ইনফারেন্স নামে একধরনের স্বয়ংক্রিয় রোবট আছে যা জলপথে মাসের পর মাস অবস্থান করতে পারে। এ রোবটগুলো ফাইবারগ্লাসের তৈরি এবং এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর থাকে যা গবেষকদের জলপথের বাস্তব পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে।
তাছাড়া এ রোবটগুলো পানির অবস্থা ও গ্যাস নিঃসরণ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। সমুদ্রের যেসব স্থানে অতিরিক্ত অম্ল থাকে সেখানে সাধারণ অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি যান ব্যবহার করা যায় না। এসব স্থানে ইনফারেন্স রোবট ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এ রোবটগুলোর সাহায্যে পানির নিচে বিদ্যমান আগ্নেয়গিরি পরীক্ষার কাজও করা যায়। সম্প্রতি সলোমন দ্বীপে এক ভ্রমণে ইনফারেন্স রোবটের ব্রেইন ব্যবহার করে বিশেষ যান নির্মাণ করা হয়। এদিকে জাপানি বিজ্ঞানীরা শিল্প-কল-কারখানা, চিকিৎসা আর বসতবাড়ির পর এবার কৃষি ও মৎস্য শিল্পের জন্যও রোবট উদ্ভাবন করেছেন। জাপান সরকার জমিতে অধিক ফলন এবং অতিরিক্ত লোকবল কমাতে নতুন এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাপানে কৃষিকাজের সাথে জড়িত বেশিরভাগ লোকের বয়স ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে। বয়স্ক কৃষকদের পরিশ্রম লাঘবের জন্য জাপান সরকার এ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ১৭ ধরণের রোবট তৈরির জন্য ১২০ কোটি জাপানি মুদ্রার একটি তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এসব রোবট তৈরি করা হবে। সে লক্ষ্যে কৃষি ও মৎস্যখাতের উন্নয়নে গবেষকরা এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি রোবট তৈরি করেন। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং জাপানের বয়স্ক কৃষকদের সহায়তা করতে এ রোবটগুলো বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। জাপানের ওকায়েমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইঢি ইয়াগী বলেন, আমরা কৃষিতে আমাদের সাফল্য পৌঁছে দিতে রোবট আবিষ্কার করেছি যাতে কৃষিতে বৈল্পবিক পরিবর্তন সাধিত হয়। ধরুন একজন লোক সাত কেজি কমলার একটি বাক্স এক হাতে তুলতে পারে। কিন্তু আমরা কুড়ি কিলোগ্রাম ভারবহন করতে পারে এমন একটি রোবট আবিস্কার করেছি। ওই ব্যক্তির কনুই ও বুকে এ রোবটটি বাঁধা থাকবে যাতে ব্যক্তি নিজেও স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করবে। তিনি আশা করছেন আগামী শীতের আগেই আমরা এ রোবট কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবো। জাপানের ইবারাকি প্রদেেশর সুকুবাতে দেশটির জাতীয় কৃষি ও খাদ্য গবেষণা সংস্থার (ন্যারো) প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাশিও ফুকুদা বলেন, কৃষিতে আগাছা পরিষ্কার করতে পারে এমন একটি রোবট আমাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবিষ্কার করেছে। প্রায় ৮শ’ বর্গমিটারের একটি ফসলি জমি মাত্র একঘণ্টার মধ্যে অনায়াসে পরিষ্কার করে দিতে পারে আমাদের উদ্ভাবিত রোবট দু’টির ধারালো কাস্তে দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *